1 Answers
"উদ্দীপকের জমিদারপুত্র এবং 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের জমিদারের গোমস্তা অধর রায় অভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
হিন্দু ধর্মে জাত, গোত্র, বর্ণের বৈষম্য অত্যন্ত অমানবিক। নিম্নশ্রেণির মানুষ উচ্চশ্রেণির দ্বারা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। নিচু জাতের বলে উঁচু শ্রেণি তাদের দূরে ঠেলে দেয়। এসব বৈষম্য মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্তরায়।
উদ্দীপকে মানবিক বোধসম্পন্ন একজন জমিদারের ছেলের অমানবিকতায় একজন ব্যক্তির ঐ জমিদার বাড়ি প্রতি বিমুখতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে খুড়ো তার সদগুণের জন্য নবাবগঞ্জের জমিদারের সাহায্য-সহানুভূতি লাভ করতেন। কিন্তু জমিদারের মৃত্যুর পর তিনি জমিদারপুত্রের অমানবিক আচরণে আর সেই জমিদার বাড়িমুখী হননি। কারণ জমিদারের ছেলে খুড়োকে কোনো সাহায্য করতে আগ্রহ দেখাননি। উদ্দীপকের জমিদারপুত্রের এই আচরণটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অধর রায়ের আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখক সামন্তশ্রেণির প্রতিনিধি অধর রায়ের অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অধর রায় নিচু জাত বলে কাঙালীকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। কাঙালীর বাবা রসিক দুলে জমিদারের লোকের হাতে মার খেয়েছে। এই অমানবিকতার সঙ্গে উদ্দীপকে জমিদারপুত্রের অমানবিকতা সাদৃশ্যপূর্ণ। এভাবে উদ্দীপকের জমিদারপুত্র এবং গল্পের অধর রায় অভিন্ন চরিত্রের লোক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। সুতরাং বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।