1 Answers
নির্দেশিত দিকটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের সম্পূর্ণ ভাবের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেনি- মন্তব্যটি যথার্থ।
শ্রেণিবৈষম্য একটি সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তারপরও এই নির্মম নিয়মের কোনো পরিবর্তন হয় না। সেই আদিকাল থেকে চলে আসা এ নিষ্ঠুর নিয়মের বলি হয়েছে অগণিত দরিদ্র অসহায় মানুষ। অথচ তাদেরও রয়েছে সুন্দরভাবের বাঁচার অধিকার।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে প্রকাশ পেয়েছে বর্ণবৈষম্যের ভয়ংকর দিক। দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট আর সামন্তবাদের নির্মম রূপ প্রকাশ করতে লেখক প্রথমে ঠাকুরদাস মুখুয্যের মতো সমাজে ধনী ও প্রতাপশালী মানুষের সামাজিক অবস্থান তুলে ধরেছেন। এই প্রসঙ্গে তার বর্ষীয়সী স্ত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বর্ণনার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। গল্পের এই দিকটিকেই উদ্দীপকটি নির্দেশ করেছে। গল্পের অন্যান্য বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখক সামন্তবাদের নির্মম রূপ এবং সমাজের নিচুশ্রেণির হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা অত্যন্ত দরদি ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি সমাজের নানা অসংগতি যেমন- বহুবিবাহ, কুসংস্কার, দারিদ্র্যের কশাঘাতে বিপর্যস্ত জীবন, বর্ণবৈষম্য ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে শুধু ধুমধাম করে শবযাত্রার আয়োজন এবং তাতে মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। গল্পের অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।