1 Answers

"মিল থাকলেও উদ্দীপকের মুসলমান মেয়েটি পুরোপুরি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কাঙালী নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।

সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনই রয়েছে ধর্মে-ধর্মে, সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে এবং জাত-পাতের পার্থক্য। এসব পার্থক্য অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও হীনস্বার্থ বুদ্ধিপ্রসূত। এসব বৈষম্য সমাজ প্রগতির অন্তরায়। এতে মানবতার বিপর্যয় ঘটে থাকে।

উদ্দীপকে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের ছোট মেয়েটি মুসলমান হওয়ায় পানি সংগ্রহে তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। কারণ জলাশয়ের কাছে সে ঘেঁষতে পারে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দূরে দাঁড়িয়ে বহু অনুনয়-বিনয়ে কারও দয়ায় সে সামান্য পানি সংগ্রহ করে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও অনুরূপ হীন জাত-পাতপ্রথার ভয়াবহ দৃশ্য লক্ষ করা যায়। জাতপ্রথার বৈষম্যের কারণে দুলে জাতের হওয়ায় কাঙালী তার মায়ের চিতার জন্য সামান্য কাঠও পায় না।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে কাঙালী নিচু দুলে জাতের বলে মায়ের সৎকারের জন্য এক টুকরো কাঠ তো কোথাও পায়নি; উপরন্তু জমিদারের দারোয়ান, নায়েব, এমনকি মুখুয্যে মহাশয় কর্তৃক নানা অবজ্ঞা, উপহাস ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রদত্ত উদ্দীপকের মেয়েটির তেমনটি হয়নি; বরং ভিন্ন ধর্মের হয়েও সে শেষাবধি কারও দয়ায় পানি পেয়েছে। তাই বলা যায়, গল্পের কাঙালীর সঙ্গে জাত- পাতজনিত বৈষম্যের সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের মেয়েটি কাঙালীর মতো এত বঞ্চিত বা উপেক্ষিত নয়।

5 views

Related Questions