1 Answers
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের জাত-পাতের ঘৃণ্য দিকটি প্রদত্ত উদ্দীপকে দৃশ্যমান।
অশিক্ষিত সমাজে যথার্থ শিক্ষার অভাবে ধর্মীয় বিধিবিধানের বিকৃতি ঘটে। ধর্মীয় বিশ্বাস কুসংস্কারে পর্যবসিত হয়। অশিক্ষিত, অজ্ঞ মানুষ সেগুলোকে ধর্মীয় বিধান মনে করে এবং পালন করে। এর ফলে সমাজজীবনে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে খরার কারণে গ্রামে পানযোগ্য পানির বড় আকাল। দু-একটি জলাশয়ে যৎসামান্য পানি নিয়ে যেমন কাড়াকাড়ি, তেমনই ভিড়ের দিকটি লক্ষ করা যায়। এখানে হিন্দুপ্রধান গ্রামে মুসলমান মেয়েটির বিড়ম্বনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। মেয়েটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দূরে দাঁড়িয়ে পানির জন্য বহু অনুনয়-বিনয় করে। তাতে কারও দয়া হলে তবে সে একটু পানি পায়। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পেও জাত-পাতের অনুরূপ নিষ্ঠুর নিদর্শন দৃশ্যমান। মা অভাগীর মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা পূরণে ছেলের হাতের মুখাগ্নির প্রয়োজন। দুলের জাত হওয়ায় কাঙালী নিজেদের ভিটার বেলগাছ কাটতে গিয়ে জমিদারের দারোয়ান দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়; নানা জায়গা ঘুরেও সামান্য কাঠ সে জোগাড় করতে পারে না। এদিক দিয়ে উভয় ক্ষেত্রেই অমানবিকতা ও নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে।