1 Answers
"উদ্দীপকে 'রানার' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে, সম্পূর্ণ বিষয় নয় ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে যাদের শ্রমে সভ্যতা গড়ে উঠেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হয়েছে। তাদের দাবি বেশি কিছু নয়, শুধু বেঁচে থাকার জন্য ক্ষুধার অন্ন। এটুকুও মালিক, মহাজন, শোষকরা কেড়ে নেয়। অথচ তাদের বিলাসিতার চাহিদা মেটাতে এসব শ্রমজীবী জীবন উৎসর্গ করে।
'রানার' কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, দুঃখবোধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের নিষ্ঠা ও সততার দিক তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে অন্যের সুখের জন্য নিজের সুখ বিসর্জন দেওয়ার বিষয়টি। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি নিজেকে সেই বাতিওয়ালার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যিনি রাজপথে সবার জন্য আলো জ্বালে, অথচ তার নিজের ঘর অন্ধকার থাকে। মানবকল্যাণে এই আত্মনিবেদনের দিকটি 'রানার' কবিতায় রানারের আত্মনিবেদনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও পেশাগত দায়িত্ব পালনে রানারের সচেতনতাবোধ, নির্লোভ মানসিকতা, পথ চলার বৈশিষ্ট্য, প্রিয়জনের প্রতি অনুরাগ, ক্ষুধার যন্ত্রণা ইত্যাদি বিষয় এ কবিতায় রয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
'রানার' কবিতায় রানার ক্ষুধার ক্লান্তি নিয়ে সারা রাত দুর্গম পথ পেরিয়ে খবরের বোঝা নিয়ে ছুটে চলে। নিজের আহার, বিশ্রাম, প্রিয়জনের প্রতি মমতা উপেক্ষা করে রানারের ছুটে চলা উদ্দীপকের কবিতাংশের কবির আবেগ-অনুভূতি অপেক্ষা আরও করুণ। রানার তার দায়িত্ব পালনে দুর্বার ছুটে চলে। শত্রুর ভয়, দস্যুর ভয়ের চেয়েও তার বড় ভয় কখন সূর্য ওঠে। উদ্দীপকে এ ধরনের দায়িত্ববোধ ও সময়নিষ্ঠার দিকটি অনুপস্থিত। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।