1 Answers
"মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মূলভাব এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। কর্মের মাধ্যমেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। মানুষ মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে জীবনের সার্থকতা লাভ করে। এর জন্য মানুষকে সততা, সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা প্রভৃতি মানবিক গুণের অধিকারী হতে হয়। এসব গুণ মানুষকে মহৎ করে তোলে।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির প্রকাশ ঘটেছে। ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তিনি অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং মানুষ তাঁর প্রতি যে অন্যায় করেছে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি নিজে অজস্র নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো কাউকে আঘাত করেননি। অর্থাৎ অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তিনি অন্যায় করেননি। তাঁর এই মানসিকতার সঙ্গে উদ্দীপকের 'তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?'-এর সাদৃশ্য রয়েছে। মহাজ্ঞানী-মহাজনরাও উত্তম আচরণ করার কথা বলেছেন। সুন্দর ও আদর্শবান মানুষ কখনো অন্যায় করেন না। অন্যকে কষ্ট দেন না। এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর আরও মানবীয় গুণাবলি ও আদর্শ তুলে ধরা হয়েছে।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মুহম্মদ (স.)-এর মানবপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা, দয়া, পরোপকারিতা, দূরদর্শিতা এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ও দৃঢ় আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে পূর্ণ রূপে প্রতিফলিত হয়নি। মহানবি (স.) মক্কার পৌত্তলিকদের ক্ষমা, তায়েফে শত্রুর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েও ধৈর্য ধারণ করা প্রভৃতি বিষয় এ প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।