1 Answers
মিল থাকলেও উদ্দীপকে 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের মর্মার্থ প্রতিফলিত হয়নি। - মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজের একশ্রেণির মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। ফলে উঁচু শ্রেণির লোকেরা নিচু শ্রেণির লোকদের ছোটলোক বলে অভিহিত করে। অথচ মানবসভ্যতার উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা রয়েছে।
'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে লেখক দরিদ্র শ্রেণির পরিচয় এবং তাদের অবদান তুলে ধরেছেন। দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তারাই দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। অথচ বাস্তব জীবনে তারাই উপেক্ষিত। উদ্দীপকের 'আসামী'ও তেমনই অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার। শুধু সে-ই নয়, তার পূর্বপুরুষরাও কালে কালে উপেক্ষা, বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নিম্নশ্রেণির মানুষের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্যের এ দিকটি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে আরও কিছু বিষয় আলোচিত হয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে লেখক আমাদের সমাজের ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ ও অনৈক্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তথাকথিত ভদ্র সমাজের দেওয়া নাম ছোটলোকদের জন্য গভীর ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে মহাত্মা গান্ধী কীভাবে এগিয়ে এসেছিলেন তা এ প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ প্রবন্ধে লেখক গান্ধীকে অনুসরণ করে তাঁর মতো দরদি হৃদয় নিয়ে গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো আহ্বান করেছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।