1 Answers

উদ্দীপকের মূলভাব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে প্রতিফলিত মহাত্মা গান্ধীর কর্মকান্ডের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। মন্তব্যটি যথার্থ।

পৃথিবীতে সব মানুষই সমান। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা জাতিত্বের ভিত্তিতে মানুষ নিজেদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন। কাজেই মানুষকে কোনো জাত-ধর্ম-গোত্র, ধনী-দরিদ্র প্রভৃতি দিয়ে বিভক্ত করা উচিত নয়।

উদ্দীপকে ধর্ম-বর্ণের বাইরে পৃথিবীর সব মানুষের জন্য অভিন্ন এক ধর্মের কথা বলা হয়েছে। সৃষ্টির শুরুতে মানুষের যে পরিচয় পাওয়া যায় সেই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে উদ্দীপকে। মানুষের স্বার্থের কারণে সৃষ্ট পরিচয় মানুষের প্রকৃত পরিচয় নয়, মানুষের প্রকৃত পরিচয় সে মানুষ। মানুষ যেকোনো ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের অন্তর্গত হতে পারে; ধনী কিংবা দরিদ্র হতে পারে; তাতে তার পরিচয় বদলে যায় না। যারা তা বদলায় তারা স্বার্থপর, বৈষম্য সৃষ্টিকারী। উদ্দীপকের এই ভাবের সঙ্গে প্রবন্ধের মানবধর্ম ও সাম্যবাদের চেতনাদীপ্ত মহাত্মা গান্ধীর কর্মকান্ড সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ তিনি ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোত্র, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার সঙ্গে মিশেছেন। অসহায়কে বুকে জড়িয়ে তার দুঃখ-যন্ত্রণা লাঘব করতে চেয়েছেন।

'উপেক্ষিত শক্তির উদ্‌দ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক পতিত চন্ডাল, ছোটলোকদের ঐক্যবদ্ধ মহাশক্তির যথার্থ মূল্যায়ন ও কাজে লাগানোর কথা বলেছেন। এই সত্য ধারণ করে মহাত্মা গান্ধী ছোটলোক শ্রেণিকে বুকে নিয়ে ভাই বলে ডেকেছিলেন। তিনি ধর্ম-জাতিভেদের বৈষম্য ভেঙে দিয়ে মানবতা ও সাম্যবাদী চেতনাকে উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। এই দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

6 views

Related Questions