"উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'আশা' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
"উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'আশা' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আত্মস্বার্থমগ্ন হয়ে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা প্রকৃত মানুষের কাজ নয়। কেবল আত্মস্বার্থ হাসিলের জন্যই মানুষের জন্ম হয়নি। মানুষকে মানবকল্যাণের জন্যও কাজ করতে হয়। যে জীবন মানবকল্যাণের সুমহান ব্রতে নিয়োজিত, সে জীবনই সার্থক।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষকে বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করে গরিব-দুঃখী মানুষকে ভালোবেসে মনুষ্যত্বসম্পন্ন মানুষ হওয়ার কথা বলেছেন। তিনি জগতের অসহায় অনাহারী মানুষের দুর্ভাবনাহীন জীবনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছেন। এখানে কবির যে মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে তার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। এখানে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে উত্তম মানুষ হওয়ার আহ্বান করা হয়েছে। জগতে যাঁরা মানবকল্যাণ সাধন করে উত্তম মানুষে পরিণত হয়েছিলেন, এখানে তাঁদের নাম স্মরণ করা হয়েছে।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষের সঙ্গে মানুষের হীন ভেদাভেদ ভুলে আত্মস্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে হতাশার জীবন থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত কবি-সাহিত্যিকরাও মানুষের সঙ্গে মানুষের হীন ভেদাভেদ অস্বীকার করে মানুষের মধ্য থেকে তা দূর করার জন্য আত্মনিবেদন করে গেছেন। তাঁরা যে মহত্তর চেতনার পরিচয় দিয়েছেন তা 'আশা' কবিতার মানবিক চেতনার দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।