1 Answers

রায়হানের মার বক্তব্যটি যথার্থ। কারণ প্রত্যেককে পরকালে দুনিয়ার কৃতকর্মের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। রাইয়ান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তার পীরের নিকট গিয়ে দোয়া চায় এবং রোগটি ভালো করে দেওয়ার জন্য আবেদন করে। এ ধরনের আবেদন শিরকের শামিল। শিরকের অপরাধ যে কত জঘন্য সে সম্বন্ধে আল্লাহ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। তাছাড়া অন্য যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা : ৪৮) রাইয়ান পীরকে ভালো করার মালিক মনে করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ রোগমুক্ত করার ক্ষমতা রাখে না। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর যখন আমি অসুস্থ হই, তিনিই আরোগ্য দান করেন।”

শিরক যে অমার্জনীয় অপরাধ শুধু তাই নয় বরং এতে আল্লাহর সেরা সৃষ্টি মানুষের অমর্যাদাও করা হয়। মানুষকে আল্লাহ পাক তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর অন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্য। মানুষকে এমন সব গুণ দেওয়া হয়েছে, যা দ্বারা সে অন্যসব সৃষ্টিকে বশে এনে নিজের কাজে ব্যবহার করতে সক্ষম। কিন্তু মুশরিক ঐসবের সামনে মাথানত করে। এভাবে নিজের মর্যাদাহানির জন্য সে নিজেই দায়ী। শিরকের মাধ্যমে মানবসমাজে বিবাদ ও বিভেদ সৃষ্টি হয়। বড় ছোট-এর পার্থক্য সৃষ্টি হয়। মুশরিক নানারকম জড় পদার্থ, দেবদেবী, প্রতিমা, প্রাকৃতিক শক্তির সামনেও মাথানত করে। এ হচ্ছে মানবতার চরম অবমাননা। যার পরিণতি জাহান্নাম।

সবশেষে বলা যায়, রাইয়ানের কাজটি সুস্পষ্ট শিরক, এজন্য তাকে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। তাই তার মায়ের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ সঠিক।

5 views

Related Questions