1 Answers
"স্বদেশের প্রতি অনুরাগ প্রকাশের বিচারে উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি সম্পর্কে আমি একমত।
বাংলাদেশের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এদেশের প্রকৃতির সঙ্গে নদ-নদী অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ফলে স্বদেশের কথা, মাতৃভূমির কথা বলতে গিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা নদ-নদীর প্রসঙ্গ টানেন। সেসবের সঙ্গে তাদের জীবনের সম্পৃক্ততার দিক তুলে ধরেন। তাতে স্বদেশ প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য ধরা পড়ে।
উদ্দীপকে পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান উল্লেখ করে এর বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির প্রিয় কপোতাক্ষ নদের শোভা, এ নদের জলের কলকল ধ্বনি, এর বয়ে চলার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবির ব্যক্তিহৃদয়ের যে আর্তি প্রকাশ পেয়েছে, তার সঙ্গে এর মিল না থাকলেও স্বদেশ প্রকৃতির যে রূপ কবিকে আকৃষ্ট করেছে তার সঙ্গে উদ্দীপকটির যথেষ্ট মিল রয়েছে। কারণ কবির স্বদেশ এবং উদ্দীপকের পূর্ব বাংলা এক ও অভিন্ন সৌন্দর্যের প্রতীক।
আলোচ্য কবিতায় কবি প্রবাসজীবনে তাঁর শৈশবের নদীটিকে স্মরণ করেছেন। কবি কপোতাক্ষের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধন ও ভালোবাসার কথা বলেছেন। এতে নদীমাতৃক বাংলাদেশের রূপবৈচিত্র্যের প্রতি কবির মুগ্ধতাও প্রকাশ পেয়েছে। সেই দিক বিবেচনায় উদ্দীপকের বিষয়টি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সৌন্দর্যচেতনার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা পড়েছে।