1 Answers
"উদ্দীপকের বক্তব্য 'বই পড়া' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবার্থের দর্পণ।"- মন্তব্যটি সম্পর্কে আমি একমত নই। কারণ উদ্দীপকটির বক্তব্যে প্রবন্ধের আশিংক ভাব প্রকাশ পেলেও সম্পূর্ণ ভাব উঠে আসেনি।
বই মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে জানতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। যথার্থ জ্ঞানী হতে হলে মনের যে প্রসার দরকার তা কেবল বই পড়ার মাধ্যমেই হতে পারে। সুতরাং আমাদের মনপ্রাণ সজীব, সতেজ ও সরাগ করতে হলে প্রচুর বই পড়তে হবে।
উদ্দীপকে সাহিত্য ও সাহিত্যিকের কাজ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে- মানুষের মঙ্গলই হবে সাহিত্যের লক্ষ্য। মানুষের মঙ্গল আর বিমল আনন্দ পরিবেশন সাহিত্যের কাজ। এই বিষয়টি 'বই পড়া' প্রবন্ধে উল্লিখিত সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে আনন্দ লাভের প্রয়োজনীয়তার দিকটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তবে এই বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে অন্যান্য বিষয় ও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি, বই পড়ার প্রতি মানুষের অনীহা, প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার অপূর্ণাঙ্গতা, সুশিক্ষিত লোকের অভাব, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা, বই পড়ার অভ্যাস গঠন, প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বই পড়ার আবশ্যকতা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধের এসব বিষয় উদ্দীপকে সার্বিকভাবে প্রকাশ পায়নি। সুতরাং উদ্দীপকের বক্তব্য 'বই পড়া' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবের দর্পণ হয়ে উঠতে পারেনি। এজন্যই আমি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের সঙ্গে একমত নই।