1 Answers
"ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও উদ্দীপক ও 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের বক্তব্য বিষয় এক।"- মন্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত।
মানুষের জীবনের দুটি দিক আছে। একটি হলো জীবসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার নিমিত্তে জৈবিক চাহিদা মেটানোর অপরিহার্য দিক, অন্যটি হলো মানবসত্তার বিকাশ। মানবসত্তার জাগরণের জন্য প্রয়োজন প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ।
উদ্দীপকে আজকের বাজারে বিদ্যাদাতার যে অভাব নেই সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বর্তমানের পিতা-মাতারা সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলেন স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটানোর নিমিত্তে। এতে শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য ধরা পড়ে। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধেও লেখক এই একই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রবন্ধে জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উত্তরণের মই হিসেবে শিক্ষাকে নির্দেশ করা হয়েছে। শিক্ষার যেমন প্রয়োজনীয় দিক আছে, তেমনই অপ্রয়োজনীয় দিকও আছে। প্রয়োজনীয় দিক হলো অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি আর অপ্রয়োজনীয় দিক হলো মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো। অর্থচিন্তার প্রয়োজন থেকে মুক্তি পেলে শুরু হবে প্রকৃত শিক্ষা। এখানে পৌছাতে পারলে মানবসত্তায় উপনীত হওয়া যায়।
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের মতো উদ্দীপকেও শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।