1 Answers

'আমরা বহুকাল হইতে দাসীপনা করিতে করিতে দাসত্বে অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি।' উদ্দীপকের এই বাক্যের মূলভাব এবং 'নিমগাছ' গল্পের ম্যাজিক বাক্যটির মূলভাব একসূত্রে গাঁথা। মন্তব্যটি যথার্থ।

নিঃস্বার্থ পরোপকারীরাই পৃথিবীতে বেশি অবহেলার শিকার হয়। সংসারে যে নারী বেশি খাটে সেই বেশি বঞ্চনার শিকার হয়। সবার জন্য যে কাজ করে, কেউ তার দিকে ফিরে তাকায় না। অযত্ন ও অমর্যাদার শিকার হয়েই তাকে বাঁচতে হয়।

উদ্দীপকে নারীর মানসিক উচ্চবৃত্তিগুলোর বিনাশ হওয়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এখানে নারীর অকর্মণ্য হয়ে পড়া এবং দাসীপনা করে পুরুষের দাসত্ব স্বীকার করার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এ বিষয়টি 'নিমগাছ' গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার অবস্থাকে নির্দেশ করে। নারীরা নিজেদের পরনির্ভরতা থেকে মুক্ত করার মানসে কাজ করার সাহস পায় না। কারণ তারা নিজেদের দুর্বল মনে করে। বহুকাল থেকে তারা যে দাসীপনা করতে করতে দাসত্বে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে সেই বৃত্ত থেকে বের হতে পারে না এ বিষয়টি 'নিমগাছ' গল্পের গৃহবধূটির সংসার ছেড়ে বের হয়ে আসতে না পারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছ নিঃস্বার্থ উপকারী ব্যক্তি চরিত্রের প্রতিনিধি। 'নিমগাছ' প্রতীকে এই ব্যক্তি গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটি। নিমগাছের ঔষধিগুণ ও উপকারিতা সর্বজনবিদিত হলেও কেউ যেমন তার যত্ন করে না তেমনই এই বধূও সংসারে সবার খেয়াল রাখলেও কেউ তার খেয়াল রাখে না। শেকড় মাটির অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় 'নিমগাছ' যেমন ইচ্ছা থাকলেও যেতে পারে না তেমনই গৃহবধূটিও সংসারের বাঁধন ছিঁড়ে যেতে পারে না। তার উচ্চবৃত্তগুলোও ম্লান হয়ে যায়। এভাবে উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'নিমগাছ' গল্পের ম্যাজিক বাক্যটির মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।

6 views

Related Questions