1 Answers

মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব 'বঙ্গবাণী' কবিতার মূলভাবকে প্রতিফলিত করে না।- মন্তব্যটি যথার্থ। 

ভাষা মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। এক্ষেত্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব সর্বাধিক। জন্মের পর থেকে মানুষ যে ভাষায় কথা বলতে শেখে, সেই ভাষাতেই শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করা সহজ। কারণ মাতৃভাষার সঙ্গে মানুষের জীবনযাপনের প্রতিটি উপাদান জড়িত।

উদ্দীপকে মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ ও কুসংস্কারকে অবলম্বন করে এদেশে আরবি শিক্ষা বিস্তারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়টি 'বঙ্গবাণী' কবিতার মুসলমানদের বাংলা ভাষার প্রতি বিদ্বেষ এবং আরবি ভাষার প্রতি অনুরাগের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি এখানে নিজ মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অনীহা প্রকাশকারীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকের বিষয়টি কবির ক্ষোভের কারণের সঙ্গে মিলে যায়। কারণ মাতৃভাষা বাংলাকে মুসলমানরা 'হিন্দুর অক্ষর' বলে অবজ্ঞা করেছে এবং আরবিকে মুসলমানের ভাষা বলে দাবি করেছে। তাদের এ দাবি আরবি ভাষার প্রতি আবেগ এবং ধর্মীয় কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয়। এ মিলটি ছাড়া কবিতার অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকের কোনো মিল নেই। 'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি মাতৃভাষার প্রতি যে অনুরাগ প্রকাশ করেছেন তা উদ্দীপকে নেই।

'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবির নিজ মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা, অন্য ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা এবং মাতৃভাষাবিদ্বেষী মানুষের প্রতি চরম ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। কবি মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ মাতৃভাষায় মানুষ যত সহজে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে অন্য ভাষায় তা সম্ভব নয়। উদ্দীপকে এসব বিষয় প্রতিফলিত হয়নি। 'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে বলেছেন। কবির মতে মানুষ মাত্রই নিজ ভাষায় স্রষ্টাকে ডাকে। আর স্রষ্টাও মানুষের বক্তব্য বুঝতে পারেন। আর যেসব ভাষায় আল্লাহ ও মহানবির স্কৃতি বর্ণিত হয়েছে সেসব ভাষার প্রতি কবি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকে কবির এই উদারতা প্রতিফলিত হয়নি। এসব কারণে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।

5 views

Related Questions