1 Answers

উদ্দীপকের শেষাংশের রমেশ শীলের পদের মূলভাব এবং 'মানুষ' কবিতার মূলভাব এক ও অভিন্ন।- মন্তব্যটি যথার্থ। 

পৃথিবীর সব মানুষ একই রকম আলো-বাতাসে লালিত-পালিত। সবার ক্ষুধা-তৃষ্ণা, দুঃখ-সুখের অনুভূতিও এক ও অভিন্ন। একই রকম লাল রক্ত সবার শরীরে প্রবাহিত। এসব সত্ত্বেও ধর্ম-বর্ণ-গোত্র দিয়ে মানুষ নিজেদের মধ্যে বৈষম্যের দেয়াল তোলে।

'মানুষ' কবিতায় কবি পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন জাতি এ সত্যটি তুলে ধরেছেন। কবি এখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতি প্রভৃতির বাইরে মানুষের মানুষ পরিচয়কে বড় করে তুলেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীতে মানুষ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ অন্য কিছুই নেই। দেশ-কাল, ধর্ম- বর্ণ, জাতি-গোত্র এ সবকিছুই মানুষের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। উদ্দীপকের শেষাংশে রমেশ শীলের পদে এরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তিনি বলেছেন জেলে, ধোপা, মুচি জাতি কেবল ধর্ম ব্যবসায়ীদের স্বার্থের সৃষ্টি, স্রষ্টার সৃষ্টি নয়। তাঁর সৃষ্টি সব মানুষ এক জাতি, তাছাড়া অন্য কোনো জাতি নেই।

'মানুষ' কবিতায় কবি সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন- সব দেশে সব কালে মানুষের একটিই পরিচয়- সে মানুষ। 'মানুষ' কবিতায় মোল্লা ও পুরোহিত ক্ষুধার্ত ভিখারির সঙ্গে যে আচরণ করেছে তা অমানবিক। উদ্দীপকের রমেশ শীলের পদে মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়ে মানবিক আচরণের ইঙ্গিত করা হয়েছে। 'মানুষ' কবিতায় কবিও সেই আহ্বান করেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

4 views

Related Questions