1 Answers
উদ্দীপকের কবিতাংশের মেহনতি মানুষগুলোর হাত ধরেই 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখক বোধন বাঁশিতে সুর দেওয়ার কথা বলেছেন।- মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই নিম্ন শ্রেণির মানুষ নানাভাবে অবহেলিত, নিপীড়িত ও নিষ্পেষিত। অথচ তারাই এই সভ্যতা নির্মাণে মূল কারিগর। তাদের হাতেই এই ধরণিতে সোনা ফলে। অথচ সমাজের স্বার্থান্বেষী ধনিকশ্রেণি তাদের অবহেলা করে, ঘৃণা করে, শোষণ করে।
উদ্দীপকে মেহনতি মানুষের দুর্বার শক্তির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। কারখানার শ্রমিক, খেতের কৃষক, কামার, কুমার, তাঁতি সবার মিলিত শক্তি ও আনুগত্যে দেশের সংকটময় অবস্থা দূরীভূত হবে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্দ্বোধন' প্রবন্ধেও লেখক সমাজের এসব মেহনতি মানুষের দুর্বার শক্তির ওপর আস্থা রেখেছেন, নির্ভর করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের দশ আনা শক্তিই এই তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভর করে।
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখকের সাম্যবাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি সমাজের মেহনতি মানুষ- যাদের তথাকথিত ভদ্রলোক সম্প্রদায় দূরে সরিয়ে রেখেছে তাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, তাদের বুকে টেনে নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বলেছেন। উদ্দীপকেও এইসব মেহনতি মানুষের শক্তিকে পুঁজি করে দেশের সংকট মোকাবিলা করার কথা বলা হয়েছে। লেখক এসব মেহনতি মানুষের হাত ধরেই তাঁর বোধন বাঁশিতে সুর তোলার কথা বলেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।