1 Answers
"উদ্দীপকের মিতুই 'নিমগাছ' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সংসারের বেড়াজালে একবার আটকে গেলে একজন নারীর পক্ষে সেই জাল ছিন্ন করে বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। সংসারে নানা দায়দায়িত্ব পালন করে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হলেও কেউ তার খেয়াল রাখে না। বরং সে নানাভাবে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়।
'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের প্রতীকে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের জীবন-যন্ত্রণাকে নির্দেশ করেছেন। সেই বউ শ্বশুরবাড়িতে সবার জন্য নিবেদিতপ্রাণ, অথচ তার প্রতি কেউ সদয় নয়। মুক্তি চাইলেও সে নিমগাছের মতো সংসারের জালরূপ শিকড় ছিন্ন করে আসতে পারে না। উদ্দীপকেও এই বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে মিতু তার ফুফুর পরিবারে সবার যত্ন নিলেও সেই পরিবারে সে অবহেলার শিকার। সেই পরিবার ছেড়ে তার চলে যেতে ইচ্ছে করলেও বৃদ্ধ ফুফুর মায়ায় যেতে পারে না। গল্পের গৃহবধূ ও উদ্দীপকের মিতু উভয়েই সংসারের মায়া জালে আটকা পড়ে মুক্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত।
'নিমগাছ' গল্পে লেখক নিমগাছের সঙ্গে লক্ষ্মীবউটির তুলনা করে সমাজে নারীর অবস্থান তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকেও সংসারে নারী যে অবহেলার শিকার সেই দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কথা বলতে না পারলেও মিতু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে। সে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও কেউ তার প্রতি সহানুভূতি দেখায় না। 'নিমগাছ' গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটিও অনুরূপ অবহেলার শিকার। লক্ষ্মীবউটি সবার খেয়াল রাখলেও কেউ তার খেয়াল রাখে না। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।