1 Answers
উদ্দীপকের ২নং তালিকায় উল্লেখিত পুণ্ড জনপদটি ছিল প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ জনপদ।
বস্তুতপক্ষে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। বগুড়া শহর থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতরা অনুমান করেন। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষগুলোর মধ্যে বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, খোদাই পাথর ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, শীলাদেবীর ঘাট প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ষষ্ঠ শতকে পুণ্ড নগরী বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল। রাজশাহীর পাহাড়পুরের বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির আকর্ষণীয় নিদর্শনসমূহও এ নগরীর অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়পুরের ধ্বংসাবশেষগুলোর মধ্যে সোমপুর বিহার, স্নানঘাট, গন্ধেশ্বরীর মন্দির, সত্যপীর ভিটা, প্রস্তরমূর্তি, পোড়া মাটির ফলক, মুদ্রা, শিলালিপি ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারটি তৎকালীন বাংলার বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রচার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
পরিশেষে বলা যায় যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বিশ্লেষণ করে সহজেই বোঝা যায় যে, প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড জনপদ ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী।