1 Answers

হ্যাঁ, আমি মনে করি সেন বংশের অনেক শাসক শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান রেখেছিলেন।

পাল বংশের পতনের পর বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলাদেশে সেন রাজবংশের সূচনা হয় এবং তা ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়কালের মধ্যে সেন বংশের অনেক শাসক বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

সেন শাসক বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তিনি বেদ, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন। বল্লাল সেনের একটি বিরাট গ্রন্থাগার ছিল। কবি বা লেখক হিসেবে সংস্কৃত সাহিত্যে তার অবদান অপরিসীম। তিনি দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। এ গ্রন্থ দুটি তার আমলের ইতিহাসের অতি মূল্যবান উপকরণ। বল্লাল সেনের পুত্র লক্ষণ সেনও সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। তিনি পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন। লক্ষণ সেন রচিত কয়েকটি শ্লোকও পাওয়া গেছে। তার রাজসভায় বহু পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের সমাবেশ ঘটেছিল। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবি তার সভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত বিখ্যাত পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন। তার রাজত্বকালে শ্রীধরদাস সদুক্তিকর্ণামৃত ও জয়দেব গীতগোবিন্দ কাব্য রচনা করেন। এর পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও সেন আমলে বাংলা উন্নতির শিখরে আরোহণ করেছিল।

উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সেন বংশের শাসকেরা বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সেন শাসকেরা নিজেরাও ছিলেন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী। শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ থেকেই তারা বাংলার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।

6 views

Related Questions

মানবাধিকার হচ্ছে সেসব অধিকার যা জাতীয়তা, লিঙ্গ, বর্ণ, ধর্ম, ভাষা অথবা অন্য যে কোন অবস্থান নির্বিশেষে মানুষের নিকট অন্তর্নিহিত। বস্তুতঃ মানবাধিকার বলতে কিছু নৈতিক রীতিনীতি বা নিয়ম যা মানব আচরণের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডগ্র বোঝায়। আন্তর্জাতিক আইনে মানবাধিকারকে আইনগত অধিকার হিসেবে রক্ষা করা হয়। এই পৃথিবীতে প্রতিটি অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকারগুলোকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের দেশের বহু মানুষ মৌলিক মানবাধিকারসমূহ থেকে বঞ্চিত। আমাদের দরিদ্র শিশুরা বলেন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। অনেক পথশিশু রয়েছে যারা আশ্রয়হীন। এইসব ছোটছোট বাচ্চাদেরকে বেঁচে থাকার জন্য অর্থ উপার্জন করতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি শিশুশ্রম বৃদ্ধি করে। (Translation: Bangla to English)
1 Answers 6 Views