1 Answers

আমি মনে করি, শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর বিহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী পাল বংশের রাজারা তাদের ক্রমবর্ধমান সাম্রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই বেশকিছু সংখ্যক বিহার স্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছিল এশিয়ার বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র। পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল কর্তৃক নির্মিত সোমপুর বিহারও ছিল উপমহাদেশের একটি প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। প্রাচীন বাংলায় একটি বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে সোমপুর বৌদ্ধ বিহারকে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের সাথে তুলনা করা হতো। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের নিকট অতি বিখ্যাত ধর্ম শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয় চীন, তিব্বত, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এ স্থানে ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। নয় থেকে বারো শতকে উক্ত দেশগুলোর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে এ বিহার ভ্রমণে আসেন। অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বেশ কয়েক বছর এই বিহারে অতিবাহিত করে জ্ঞান সাধনা করেন। এখানকার অনেক ভিক্ষু তিব্বতসহ অন্যান্য অঞ্চলে বিশুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেছিলেন। বস্তুত উপমহাদেশের ইতিহাসে শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের গুরুত্ব অপরিসীম।

উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর বিহার ছিল প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে উক্ত বিহারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

4 views

Related Questions