1 Answers
আগরতলা মামলা পরবর্তী সময়ে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
আগরতলা মামলার বিচারকাজ চলার সময় পাকিস্তানের উভয় অংশে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়। ধীরে ধীরে পূর্ব পাকিস্তানের গণবিক্ষোভ ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ১৯৬৯ সালে আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করা হলে জনগণ গর্জে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা তার মৃতদেহ নিয়ে ঢাকার রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আইয়ুব সরকার মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে বৈঠকে বসার আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু মওলানা ভাসানীসহ পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ ও জনগণ সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার নতি স্বীকার করে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দেয়। এভাবে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থান সফলতা লাভ করে। আন্দোলনের এ সাফল্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনার প্রকাশ তুঙ্গে ওঠে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উল্লিখিত মামলা পরবর্তী সময়ে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।