1 Answers
উদ্দীপকের উল্লিখিত তন্ত্রটি হলো মানবদেহের নালিবিহীন গ্রন্থি তন্ত্র। এসব নালিবিহীন গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
নালিবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত এ ধরনের রসকে হরমোন বলে। হরমোন রক্তস্রোতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য কোষে পৌঁছে কোষের প্রাণরাসায়নিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে জৈবিক কার্যাবলি সুস্পষ্টভাবে পরিচালিত করে। তবে প্রয়োজন অপেক্ষা কম বা বেশি পরিমাণ হরমোন নিঃসৃত হলে দেহে নানারকম অবাঞ্চিত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দেখা দেয় নানা হরমোনজনিত রোগ। যেমন: আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স গ্রন্থি হতে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এ নিঃসরণ কম হলে শরীরে বহুমূত্র রোগ দেখা দেয়। তাই পরিমিত মাত্রায় হরমোন নিঃসরণ করে নালিবিহীন গ্রন্থি মানব শরীরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন সাধারণত মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। আবার, অ্যাডরেনাল গ্রন্থি দেহের অত্যাবশ্যকীয় বিপাকীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি মূলত কঠিন মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে পরিত্রাণে সাহায্য করে। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত রাসায়নিক পদার্থ তথা হরমোন মানবদেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।