1 Answers
উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশকৃত শাসক অর্থাৎ পালবংশের শাসক গোপালের পূত্র ধর্মপাল ছিলেন তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক। ধর্মপালের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে এ বিষয়টি প্রমাণ হয়ে যায়।
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা শশাংকের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা শেষে গোপাল নামক জনৈক রাজা পাল বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা গোপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র ধর্মপাল (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার সময়ে অরাজকতা ও অত্যাচারের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত বাংলা প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তিনি উত্তর ভারতে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ধর্মপাল ভাগলপুরের ২৪ মাইল পূর্বে 'বিক্রমশীল বিহার' নামে একটি বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মাণ করেন। নবম শতক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত এটি সমগ্র ভারতবর্ষে একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। নাটোর জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানেও ধর্মপাল এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। তিব্বতের লেখক লামা তারনাথের মতে, ধর্মপাল বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার জন্য ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে তিনি নিজে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন রাজার ব্যক্তিগত ধর্মের সাথে রাজ্য শাসনের কোনো সম্পর্ক নেই। তার প্রধানমন্ত্রী গর্গ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। এসব কারণে তাকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, গোপালের পুত্র ধর্মপাল ছিলেন তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক।