1 Answers
'ক' চিহ্নিত শাসক অর্থাৎ ধর্মপাল ছিলেন একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক- উক্তিটি যথার্থ।
পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের মৃত্যুর পর ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে ধর্মপাল বাংলার সিংহাসনে বসেন। পাল সাম্রাজ্যের উত্থান ও এর প্রতিপত্তি বিস্তারে ধর্মপালের অবদান সর্বাধিক। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। বাংলা ও বিহারব্যাপী তার শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। ধর্মপালের অধীনেই বাংলা সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে সফলতা লাভ করেছিল।
ধর্মপাল নিজে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি তার কোনো বিদ্বেষ ছিল না। তার আমলে অনেকগুলো বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মিত হয়। এগুলোর মধ্যে 'বিক্রমশীল বিহার', পাহাড়পুরের 'সোমপুর বিহার' উল্লেখযোগ্য। বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের পাশাপাশি তিনি অন্য ধর্মের লোক যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখতেন। নারায়ণের একটি হিন্দু মন্দিরের জন্য তিনি করমুক্ত ভূমি দান করেছিলেন। ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেছিলেন। অর্ধশতক পূর্বে যে দেশ অরাজকতা ও অত্যাচারের লীলাভূমি ছিল, তার নেতৃত্বে সে দেশ সহসা উত্তর ভারতে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। পাল বংশের শাসকদের মধ্যে ধর্মপাল সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত শাসকের শাসনকাল ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি বাংলা, বিহার ও উত্তর ভারতে শাসন প্রতিষ্ঠা, বিক্রমশীল বিহার স্থাপন, হিন্দুদের করমুক্ত ভূমিদান প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করেছেন। যা উপরে আলোচিত পাল বংশের শাসক ধর্মপালকে নির্দেশ করে। শিক্ষাবিস্তারে তার গৃহীত পদক্ষেপ, সুশাসন, পরধর্মসহিষ্ণুতা প্রভৃতি কর্মকাণ্ড তাকে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত করেছে।