1 Answers

'খ' চিহ্নিত শাসক অর্থাৎ দ্বিতীয় মহীপালের দুর্বল শাসনই বাংলার পাল রাজবংশের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটায়।

১০৪৩ খ্রিষ্টাব্দে ১ম মহীপাল মারা যাওয়ার আগে তার কোনো যোগ্য উত্তরসূরী রেখে যেতে পারেননি। এর ফলে বাংলার বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় ১০৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তৃতীয় বিগ্রহপালের পর তার পুত্র দ্বিতীয় মহীপাল সিংহাসনে বসেন। তার সময় পাল রাজত্বের দুর্যোগ আরও ঘনীভূত হয়। এ সময় উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, ইতিহাসে এ বিদ্রোহকে 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' বলা হয়। এ বিদ্রোহের নেতা কৈবর্ত নায়ক দিব্যোক বা দিব্য ১০৮০ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেন। যদিও দ্বিতীয় মহীপালের মৃত্যুর পরেই পাল বংশের বিনাশ হয়নি, তবুও তার দুর্বল শাসনের ফলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সফল হলে পাল বংশের অবস্থা আরও কোণঠাসা হয়ে পরে। এরই ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে পাল বংশের পতন হয়।

উদ্দীপকের 'খ' চিহ্নিত শাসকের শাসনকাল ১০৭৫-১০৮০ খ্রিষ্টাব্দ। তার কর্মকাণ্ড হিসেবে দেওয়া আছে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশ হাতছাড়া ও কৈবর্ত যুদ্ধে পরাজয়, যা উপরে বর্ণিত দ্বিতীয় মহীপালের শাসনকাল ও কর্মকাণ্ডকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, 'খ' চিহ্নিত শাসক হলেন দ্বিতীয় মহীপাল যার দুর্বল শাসন পাল বংশের পতনের অন্যতম কারণ।

5 views

Related Questions