1 Answers

উদ্দীপকের মামুন খানের কর্মকাণ্ড তুর্কি সেনানায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির সাথে সংগতিপূর্ণ।

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন। বখতিয়ার খলজি ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং আফগানিস্তানের গরমশিরের অধিবাসী। গজনিতে শিহাবউদ্দিন ঘোরির সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে তিনি ব্যর্থ হন। অতি লম্বা হাত ও কুৎসিত চেহারার অধিকারী ছিলেন বলে বখতিয়ার বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও চাকরি পাচ্ছিলেন না। একসময় তিনি বদাউনে যান এবং সেখানকার শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। তবে অল্পকাল পরেই তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা যান। সেখানকার শাসনকর্তা হুসামউদ্দিন বখতিয়ারের সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দুটি পরগনার জায়গির দান করেন। বখতিয়ার তখন থেকে অল্পসংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিন্দু রাজ্য আক্রমণ ও লুণ্ঠন করতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নদীয়ায় আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে বাংলা জয় করেন। বলা হয়, তিনি এত দ্রুত অগ্রসর হয়েছিলেন যে নদীয়া জয়ের সময় তার সঙ্গে মাত্র ১৭ জন সৈন্য ছিল।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন খান ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে এক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক শাসনের সূচনা করেন। তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কি। বখতিয়ার খলজির মতই শারীরিক গঠন আকর্ষণীয় না হলেও কর্মকুশলতার বলে তিনি নতুন শাসনের সূচনা করেন।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে তাই বলা যায়, মামুন খানের কর্মকাণ্ড মধ্যযুগের বাংলার শাসক বখতিয়ার খলজির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

5 views

Related Questions