উদ্দীপকে উল্লিখিত কবির সাহেবের সাথে মধ্যযুগের বাংলার কোন শাসকের মিল রয়েছে? বর্ণনা করো। (প্রয়োগ)
1 Answers
উদ্দীপকে উল্লেখিত কবির সাহেবের সাথে মধ্যযুগে বাংলার প্রথম মুসলিম শাসক বখতিয়ার খলজির মিল রয়েছে।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। এখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরির সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। গজনিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে গিয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। এরপর বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিন্তু উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনে সন্তুষ্ট না হয়ে বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যায় যান। সেখানকার শাসনকর্তা তার সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ভগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। বিহার জয় করে বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্নের মালিক হন। এরপর তিনি রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন এবং তারপর তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কবির সাহেব জীবিকার সন্ধানে জন্মভূমি ছেড়ে অন্য একটি এলাকায় যান। কিন্তু শারীরিক গঠন আকর্ষণীয় না হওয়ায় চাকুরি পেতে ব্যর্থ হন। অনেক কষ্টে সেখানকার সৈন্য বিভাগে চাকরি পেলেও তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দখল করে নেন, যা উপরে আলোচিত বখতিয়ার খলজির জীবনের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবির সাহেবের সাথে মধ্যযুগের বাংলার শাসক বখতিয়ার খলজির সাদৃশ্য রয়েছে।