1 Answers

উদ্দীপকের জাফর সাহেবের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের হোসেন শাহি বংশের খ্যাতিমান শাসক আলাউদ্দিন হুসেন শাহের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান। তার সিংহাসনে আরোহণের আগে সাম্রাজ্যে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। হুসেন শাহ রাজ্যের দায়িত্বভার গ্রহণের পর সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যে শান্তি- শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

উদ্দীপকে বর্ণিত জাফর সাহেব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ এলাকাটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করেন। মুসলমান হিসেবে তিনি নিজ ধর্মের সুফী সাধক ছাড়াও অন্যধর্মের বিশিষ্টজনদেরকেও শ্রদ্ধা করতেন। মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা ইত্যাদি সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। সাহিত্যের উন্নতিতেও তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেন। একইভাবে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ শাসনকার্য পরিচালনায় জাতি ও ধর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও কল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছিল তার লক্ষ্য। এজন্য নিজে গোঁড়া - মুসলমান হওয়া স্বত্ত্বেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে যোগ্যতা অনুসারে শাসনকার্যে নিয়োগ দেন। তার শাসনামলেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রী চৈতন্যদেবের। হুসেন শাহ চৈতন্যদেবের প্রতি উদার মনোভাব দেখান এবং তাকে ধর্ম প্রচারে সব রকম সহায়তা করার জন্য কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশ দেন। বাংলা সাহিত্যের উন্নতির জন্যও হুসেন শাহের শাসনকাল বাংলার ইতিহাসে স্মরণীয়। হুসেন শাহের উদার পৃষ্ঠপোষকতা বাংলা সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখে। তার ২৬ বছরের শাসনকালে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা, দুর্গ, তোরণ, বিদ্যালয় নির্মিত হয়েছিল এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার অভাবিত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এজন্য তার শাসনকালকে বঙ্গের মুসলমান শাসনের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জাফর সাহেব এবং আলাউদ্দিন হুসেন শাহ একে অপরের প্রতিচ্ছবি।

6 views

Related Questions