1 Answers
কামাল সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে উনিশ শতকের মহান ব্যক্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মিল পাওয়া যায়। তৎকালীন সমাজ সংস্কারে তার অপরিসীম অবদান রয়েছে।
বাংলার অন্যতম প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
তিনি হিন্দু সমাজের বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। তার নিরলস প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিতে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়। উদ্দীপকের কামাল সাহেবের কর্মকাণ্ডে এই বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের সমাজকর্মী কামাল সাহেব সমাজের বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করেন। তিনি বিধবা নারীদের পুনরায় বিবাহ দেওয়ার জন্য ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চেষ্টা করেন। শিক্ষা বিস্তারেও তিনি ভূমিকা রাখেন। তার এ কাজগুলো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। সমাজ থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে তিনি সেসময় গ্রামে ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। দেশে প্রচলিত নানা ধরনের কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও তিনি রুখে দাঁড়ান। বিধবা বিবাহ চালুর পাশাপাশি তিনি কন্যা শিশু হত্যা ও বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। সমাজে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। এছাড়া গ্রামের দরিদ্র মানুষদের চিকিৎসার জন্য তিনি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায় যে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তৎকালীন সমাজ সংস্কারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।