1 Answers
উদ্দীপকের মনোজের কর্মকান্ডের সাথে বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত মহান সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের মিল পাওয়া যায়।
উদারপন্থী রামমোহন রায় ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন। তিনি অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় তিনি দক্ষতা অর্জন করেন। হিন্দু ধর্মের সংস্কারে তার অবদান অপরিসীম। যেমনটি মনোজের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত মনোজ একটি সমিতি গঠন করে হিন্দু ধর্ম তথা নিজ ধর্মের বিভিন্ন কুসংস্কার বিশেষ করে বাল্যবিবাহ, সতীদাহ প্রথা প্রভৃতি দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। রাজা রামমোহন রায়ও হিন্দু সমাজের সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা করেন। তাছাড়া তিনি হিন্দুধর্মের আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে এর সংস্কারে সচেষ্ট হন। প্রাচীন হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি আত্মীয় সভা নামে সমিতি গঠন করেন। ১৮২৮ সালে তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ঘটনা উপমহাদেশের ধর্মীয় অগ্রগতির ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষরা ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠায় রামমোহনের সহযোগী ছিলেন। শিক্ষা বিস্তারেও তার অবদান ছিল। ১৮১২ সালে তিনি কোলকাতায় "অ্যাংলো হিন্দু স্কুল” প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে ইংরেজি, দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা ছিল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মনোজ এবং রাজা রামমোহন রায় একে অন্যের প্রতিচ্ছবি।