1 Answers
উদ্দীপকে যে মহান ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে তিনি রাজা রামমোহন রায়। সমাজ গঠন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির অবদান অপরিসীম।
আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন রায় তৎকালীন সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিধারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। নিজের চিন্তাধারার আলোকে তিনি নতুন সমাজ গঠনে প্রয়াসী হন। হিন্দু সমাজে সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য, প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করে তিনি আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দু ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। হিন্দু ধর্মের সংস্কার ও নিজ মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি 'আত্মীয় সভা' নামে একটি সমিতি গঠন করেন। ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ব্রাহ্ম সমাজ, সেখানে উপাসনালয়ও ছিল। তার এ ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। শিক্ষার বিস্তারেও তার অবদান ছিল। তার চিন্তাধারা ছিল যুগের তুলনায় অগ্রগামী। তিনি সে সময়ে ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। এ কারণে তিনি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। ১৮২২ সালে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন 'অ্যাংলো হিন্দু স্কুল' যেখানে ইংরেজি, দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান পড়াবার ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য ইংরেজ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১ লক্ষ টাকা তিনি সংস্কৃত ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ব্যয় না করে আধুনিক শিক্ষায় ব্যয় করার জন্যও আবেদন করেন। বস্তুত সমাজ গঠন ও সংস্কারে রাজা রামমোহন রায় যে অসামান্য অবদান রেখেছেন তা ইতিহাসে তাকে অমর করে রেখেছে।