1 Answers
জনাব রইস উদ্দিনের বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের অবদান অপরিসীম।
আইনের শাসনের অর্থ আইনের প্রাধান্য স্বীকার করা। আর এই আইনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ প্রতিটি রাষ্ট্রে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন অনুসারে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইনের বৈশিষ্ট্য হলো এটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয়। বিচারের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ কোনোরূপ পক্ষপাতিত্ব করে না। তাই রাষ্ট্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি আইনের শাসনের প্রথম কথা 'আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান' তা বাস্তবরূপ লাভ করে।
বিচার বিভাগ নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। নাগরিকের মৌলিক অধিকার কাঙ্ক্ষিত হলে নাগরিকগণ বিচার বিভাগের শরণাপন্ন হতে পারেন। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিচার বিভাগ বিভিন্ন রিট যেমন- হেবিয়াস কর্পাস রিট, ম্যানডেমাস রিট, সার্টিওয়ারী রিট, কো-ওয়ারেন্টো রিট প্রভৃতি জারি করে যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
বিচারকার্য পরিচালনা করতে গিয়ে বিচারকগণ অনেক সময় মনে করেন, প্রচলিত আইন স্পষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে তারা এই ধরনের আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে তার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে, যা প্রচলিত আইনের অস্পষ্টতা দূর করে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি দেশের শাসনব্যবস্থার উৎকর্ষ নির্ণয়ের জন্য বিচার বিভাগের দক্ষতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। সমাজজীবনে সম্ভাব্য সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন প্রভৃতির বিরুদ্ধে প্রধান শক্তিই হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ। 'দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালনে' প্রত্যেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রেখে স্থিতিশীল শাসন কায়েম করে এবং জনজীবনে সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। ফলে নাগরিক জীবনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।