1 Answers

ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভে উদ্দীপকের (ii) নং অংশে প্রদর্শিত আন্দোলনসমূহের নেতা মহাত্মা গান্ধীর অবদান অপরিসীম।
মহাত্মা গান্ধী ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শীর্ষ ব্যক্তিদের একজন। তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। এ আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ স্বৈরশাসনকে ভারতীয়রা অমান্য করেছিল। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গান্ধীর অহিংস মতবাদ বা দর্শন, যা ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি। অহিংস মতবাদ এখন পর্যন্ত বিশ্বের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার পর থেকেই দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারী স্বাধীনতা, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, জাতপাতের সংস্কৃতি দূরীকরণ, স্বনির্ভরতা অর্জন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রচার শুরু করেন। এর সবগুলোরই লক্ষ ছিল স্বরাজ প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ ভারতকে বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত করা। ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশদের নানান দমন-নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এ আন্দোলন সারা ভারতের জনগণের মধ্যে প্রতিবাদী চেতনা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল। ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ গান্ধীর নেতৃত্বেই লবণ সত্যাগ্রহ শুরু হয়। এটি ছিল ব্রিটিশদের অন্যায্য লবণ নীতির বিরুদ্ধে একটি অহিংস কর প্রদান-বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন। এক পর্যায়ে মহাত্মা গান্ধী 'ভারত ছাড়' আন্দোলনের ডাক দেন। এ আন্দোলন সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয়দের ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব এভাবেই ধাপে ধাপে তুঙ্গে ওঠে। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা ভারত ত্যাগে বাধ্য হয়।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, ভারতের স্বাধীনতা লাভে মহাত্মা গান্ধীর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ।

5 views

Related Questions