1 Answers

উদ্দীপকে যে মহান নেতার কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু। তার হত্যাকাণ্ডের পর দেশে শুরু হয়েছিল সামরিক শাসন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় একটি দিন। এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। খুনি চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন রাজনীতিক খন্দকার মোশতাক আহমদ। মোশতাক রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রথমবারে মতো বাংলাদেশে সামরিক আইন জারি করেন। তবে সেনাবাহিনীর ওপর মোশতাকের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এতে কার্যত সেনাবাহিনীর 'চেইন অব কমান্ড' ভেঙে পড়ে, যা এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

উদ্দীপকে নির্দেশিত মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড ও কিছুদিন পরই ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ফলে দেশে নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত কোনো বৈধ সরকার ক্ষমতায় আসেনি বা যোগ্য নেতৃত্বের অধীনে দেশ পরিচালিত হয়নি। মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের

রাজনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনে। মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা খালেদ মোশাররফের প্রচেষ্টায় খন্দকার মোশতাক ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য হন। তবে খালেদ মোশাররফ মাত্র চারদিনের জন্য রাষ্ট্রক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। ৭ই নভেম্বর কর্নেল (অব) আবু তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর বিভিন্ন সময় বিচারপতি আবু সায়েম, জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু তারা কেউই জনগণের সরকার ছিলেন না। বাংলাদেশ দীর্ঘসময় সেনা কর্মকর্তাদের হাতে পরিচালিত হয়। এটি দেশের গণতন্ত্রকে বুদ্ধ করে যোগ্য নেতৃত্বকে দূরে রেখেছিল।

পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের ফলে দেশ নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে এবং সামরিক শাসনের উত্থান ঘটে।

4 views

Related Questions