1 Answers
উদ্দীপকের ২য় অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড ছিল বাঙালি জাতির জন্য নিকৃষ্টতম কলঙ্কিত অধ্যায়।
১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সাল। সেদিন ভোরের আলো তখনও ভালোভাবে ফুটে ওঠেনি। আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠেছে ঢাকা। জাতির পিতা সপরিবারে ঘুমিয়ে আছেন ধানমন্ডির ৩২ নং সড়কের ৬৭৭ নং বাড়িতে। ঘাতকের দল ট্যাংক, কামান, মেশিনগানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। টার্গেট বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার এবং আত্মীয়- পরিজনকে হত্যা করা। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আক্রমণ শুরু হয়। মেজর মহিউদ্দিন, মেজর হুদা, মেজর পাশা, মেজর নূরের নেতৃত্বে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে। জোরপূর্বক খুনির দল বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রবেশ করে। গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত ধানমণ্ডির অধিবাসীরা। নীলনকশা অনুযায়ী খুনিচক্র ঝাঁপিয়ে পড়ল জাতির পিতার পরিবারের ওপর। চিৎকার, হট্টগোল আর গুলির শব্দে ঘুম ভাঙে বঙ্গবন্ধু পরিবারের। একে একে হত্যা করা হয় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে। এমনকি ঘাতকরা ১০ বছরের শিশু রাসেলকেও হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
উদ্দীপকের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে আমেরিকার দাস প্রথার বিলুপ্তি ঘটে। তার নেতৃত্বে গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। অথচ জন বুথ নামে একজন ব্যক্তি তাকে গুলি করে হত্যা করে। উদ্দীপকের অনুরূপ ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। তার হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।