1 Answers
উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশে আরবপুরের লোকজন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিচ্ছবি।
১৯৪৭ সাল থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করতে শুরু করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে শোষিত ও বঞ্চিত করে। পূর্ব পাকিস্তানকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী বঞ্চিত করে। উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশে আরবপুরের লোকজন নিঝুমপুরের প্রতি ঠিক তাই করেছিল।
উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশে দেখা যায়, গ্রামের পাশের হাওরে মাছ ও ধান চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চেষ্টা করে আরবপুর ও নিঝুমপুরের মানুষ। কিন্তু সমিতিতে আরবপুরের লোকজনের আধিক্য থাকায় নিঝুমপুরবাসী ন্যায্য হিস্যা পেত না। এমনকি ধান ও মাছ বিক্রির টাকা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন হতো না। আরবপুরের লোকজনের মতো পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতো। পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে শোষিত হতো। ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত অর্থ স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমে চলে যেত। পূর্ব পাকিস্তানের রফতানির আয় ও রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানে জমা হতো। রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মোট আয়ের ৬০% এসেছিল পূর্বাঞ্চল থেকে। কিন্তু আয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অবদান বেশি হলেও ভোগ ও উন্নয়ন ব্যয়ে এ অঞ্চলের লোকজনকে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ন্যায্য অংশ দিত না। পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত অর্থ পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করতো।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশে বর্ণিত আরবপুরের লোকজন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী একে অন্যের প্রতিচ্ছবি।