উদ্দীপকের পোশাক শিল্প যেন মধ্যযুগেরই প্রতিচ্ছবি - উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকের শফিকের নির্দেশিত পোশাক শিল্প মধ্যযুগেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা মধ্যযুগেও বাংলা পোশাক শিল্পে সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল।
মধ্যযুগে পোশাক শিল্পে বাংলা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছিল। এখানে উৎপাদিত বস্ত্রগুলো গুণ ও মানের বিচারে খুব উন্নত ছিল। ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চল ছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্তে এদেশে উৎপাদিত সূক্ষ্ম বস্ত্রের চাহিদা ছিল। এদেশে নিজেদের ব্যবহারের জন্য রঙিন কাপড় এবং বিদেশে রপ্তানি করার জন্য সাদা কাপড় প্রস্তুত করা হতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শফিক বাংলাদেশের বর্তমান যুগের পোশাক শিল্পের খ্যাতির কথা বলছে। সে এ দেশের তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার কথা বলে। ঐ বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বেগবান করছে। তবে বাংলার পোশাক শিল্পের খ্যাতি ও অবস্থান কেবল আজকের নয়। মধ্যযুগেও এখানকার বস্ত্রশিল্পের ব্যাপক সুনাম ও বিস্তৃতি ছিল। মসলিন নামক বিশ্বখ্যাত সূক্ষ্ম বস্ত্রের প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা। ইউরোপসহ বহির্বিশ্বে এর প্রচুর চাহিদা ছিল। উন্নত মসলিন বস্ত্র এত সূক্ষ্ম ছিল যে, ২০ গজ মসলিন একটি নস্যির কৌটায় ভরে রাখা যেত। পাট ও রেশমের তৈরি বস্ত্রেরও সুনাম ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বর্তমান যুগের বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মীরাও উন্নতমানের পোশাক তৈরি করে বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান পোশাক শিল্প যেন মধ্যযুগের বাংলার সমৃদ্ধ বস্ত্রশিল্পেরই প্রতিচ্ছবি।