1 Answers

আশ্রম রক্ষায় তনয় বড়ুয়ার কাজটি সম্রাট অশোকের কার্যাবলির সত্যিকার প্রতিচ্ছবি।

সম্রাট অশোকের সময়ে বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভিক্ষু শ্রমণের লাভ- সংকার বৃদ্ধি পায়। তখন অন্যান্য সম্প্রদায়ের তীর্থিক সন্ন্যাসীগণ ভিক্ষুর ছদ্মবেশ ধারণ করে সংঘে প্রবেশ করে সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে থাকেন। তাঁরা বৌদ্ধ বিনয় বিধান মানতেন না, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেন না। সর্বদা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকতেন। নিজেদের মতবাদ বুদ্ধবাণী হিসেবে প্রচার করতেন। তাঁদের দাপটে ধর্মপ্রাণ ভিক্ষুগণ কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ফলে সংঘে অরাজকতা দেখা দেয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ধর্মপ্রাণ ভিক্ষুগণ অবিনয়ী ছদ্মবেশধারী ভিক্ষুদের সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। এ কারণে পাটলীপুত্রে দীর্ঘদিন উপোসথ কথ ছিল। সম্রাট অশোক এ খবর শুনে খুবই অসন্তুষ্ট হন। তিনি ভিক্ষুদের উপোসথ পালন করানোর জন্য অমাত্যকে নির্দেশ দেন। বিনয়ী ভিক্ষুগণ অবিনয়ী ভিক্ষুদের সঙ্গে উপোসথ পালন করতে অস্বীকৃতি জানালে অমাত্য বহু বিনয়ী ভিক্ষুর প্রাণসংহার করেন। এ খবর শুনে সম্রাট অশোক খুবই মর্মাহত হন। মূর্খ অমাত্যের হত্যাজনিত পাপের জন্য তিনি ভিক্ষুসংঘের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি মোগলীপুত্র তিষ্য থেরের নিকট প্রকৃত বুদ্ধ মতবাদ জ্ঞাত হয়ে অবিনয়ী ছদ্মবেশধারী ভিক্ষুদের সংঘ হতে বহিষ্কার করেন। সংঘ পুনরায় বিশুদ্ধ হয়।

উদ্দীপকের তনয় বড়ুয়া নিজ অর্থ ব্যয়ে অনাথ-অসহায়দের ভরণপোষণ ও ধর্ম শিক্ষার জন্য একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করলে, আহার এবং অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য অনেক ভন্ড ব্যক্তি পরিচয় গোপন করে আশ্রমে যোগ দিলেন। একপর্যায়ে ভন্ড ব্যক্তিরা অনাথ-অসহায়দের ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করলে আশ্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখাদেয়। তনয় বাবু ভণ্ডদের বের করে দিলে আশ্রমটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।

উদ্দীপকে তনয় বড়ুয়া একইভাবে আশ্রম রক্ষা করে। তাই বলা যায়, আশ্রম রক্ষায় তনয় বড়ুয়ার কাজটি সম্রাট অশোকের সঙ্গীতি আয়োজনের কার্যাবলির প্রতিচ্ছবি।

5 views

Related Questions