1 Answers
"পূর্ব তিমুর যেন পূর্ব বাংলার প্রতিচ্ছবি"- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে ২টি রাষ্ট্র গঠন করা হয়। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়। ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতার সাথে সাথেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শাসন ও শোষণ শুরু হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। কিন্তু প্রতিবাদী বাঙালিরা তাদের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেনি। ১৯৪৮ সালের ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পরিণত হয় পূর্ব বাংলার প্রধান রাজনৈতিক দল। প্রতিবাদী বাঙালিরা '৫২তে ভাষার জন্য জীবন দেয়, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে '৬৬ এর ছয় দফা, '৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভ, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এর ভাষণে বাঙালিদের অধিকার আদায়ে সচেতন করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নেয়।
উদ্দীপকে পূর্ব তিমুরের ক্ষেত্রেও একই বিষয় লক্ষ করা যায়। ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের শাসন থেকে মুক্ত হলেও সাম্রাজ্যবাদী ইন্দোনেশিয়া সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটি দখল করে নিয়ে দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে দেশটি ২০০২ সালে পুণরায় স্বাধীনতা লাভ করে, যা বাংলাদেশের সংগ্রামের অনুরূপ।
পরিশেষে তাই বলা যায়, 'পূর্ব তিমুর যেন পূর্ব বাংলার প্রতিচ্ছবি'।