1 Answers

কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিটি বড় পবিত্র। পুরাণে উল্লেখ আছে কার্তিকেয় শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনাদেবী তাঁর ভাই যমের মঙ্গল কামনায় গভীর ধ্যানমগ্ন হয়ে পূজা করেন। তাঁরই পুণ্য প্রভাবে যমদেব অমরত্ব লাভ করেন। বোন যমুনাদেবীর পূজার ফলে ভাই যমের এ অমরত্ব লাভের চেতনা বর্তমান কালের বোনদেরকেও প্রভাবিত করে। আলোচ্য উদ্দীপকে সুনয়নার ভাই পলাশ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে ভাইকে সুস্থ করে তোলার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। ভাইকে যেন কোনো বিপদ-আপদ স্পর্শ করতে না পারে সেটাই ছিল তার একমাত্র কামনা। ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করে কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে উপবাস থেকে সে বাঁ হাতের অনামিকা আঙুল দিয়ে পলাশের কপালে চন্দনের ফোটা পরিয়ে দেয় এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে বলে-

'ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোটা,
 যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।'

ভাইয়ের জন্য সে ঈশ্বরের কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করে। তার এ প্রার্থনায় অবশেষে ঈশ্বরের কৃপায় পলাশ সুস্থ হয়ে ওঠে।

আমরা পাঠ্যপুস্তকের যমুনাদেবীর সাথে উদ্দীপকের সুনয়নার কর্মকান্ডের মিল খুঁজে পাই। যমুনাদেবী যেভাবে ভাইফোটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে যমের অমরত্ব ফিরিয়ে এনেছিলেন ঠিক তেমনিভাবে সুনয়না তার ভাইকে সুস্থ করে তোলে।

তাই বলা যায়, সুনয়না যেন যমুনাদেবীর প্রতিচ্ছবি।

5 views

Related Questions