1 Answers

রোহন সেন প্রকৃতির দৃশ্য, লীলা দেখে ভাবপ্রবণ হয়ে পড়ে। সৃষ্টির রহস্য আবিষ্কার করতে গিয়ে তার মনে ঈশ্বরের ভাব উদয় হয়। এভাবে তার প্রকৃতিপ্রেম তাকে সাধন জীবনের দিকে নিয়ে যায়। একইভাবে আমার পাঠ্যপুস্তকে শ্রীরামকৃষ্ণকেও দেখতে পাই। তিনি প্রকৃতিকে খুবই ভালোবাসতেন। প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে কিংবা আকাশে উড়ন্ত বলাকার ঝাঁক দেখে মাঝে মাঝে তিনি ভাবাক্লিষ্ট হয়ে পড়তেন। ভজন-কীর্তনের প্রতি তাঁর খুব আকর্ষণ ছিল। লোকমুখে শুনে শুনে তিনি বহু স্তব-স্তোত্র এবং রামায়ণ মহাভারতের কাহিনী আয়ত্ত করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি কখনো শ্মশানে অথবা নির্জন বাগানে গিয়ে বসে থাকতেন। বড় ভাই রামকুমার ছিলেন কালী মন্দিরের পুরোহিত। রামকৃষ্ণ মায়ের মন্দিরে ভাবতন্ময় হয়ে থাকতেন। রামকুমারের মৃত্যুর পর রামকৃষ্ণ মায়ের পূজার ভার গ্রহণ করেন। তিনি ভবতারিনীর পূজায় মনপ্রাণ ঢেলে দেন। মাকে রামপ্রসাদী আর কমলাকান্তের গান শোনান। মা মা বলে আকুল হয়ে যান। এভাবে রামকৃষ্ণের সাধন জীবনের শুরু হয়। কালীর সাধনায় তিনি সিদ্ধিলাভ করেন। আমরা দেখতে পাই রোহন সেনের সাথে শ্রীরাম কৃষ্ণের জীবনাদর্শের মিল পাওয়া যায়। তাই আমরা বলতে পারি, রোহন যেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবেরই প্রতিচ্ছবি।” 

6 views

Related Questions