1 Answers

হিন্দুধর্মের মূলে ঈশ্বর। এ ঈশ্বরকে কেউ নিরাকার আবার কেউ সাকারে উপাসনা করে। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-

"যে যথা মাং প্রপদন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম।
 মম বর্ণানুবর্তান্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ॥"

অর্থাৎ, যিনি যেভাবে ভজনা করে আমি তাকে সেভাবেই কৃপা করি। হিন্দুধর্ম স্বীকার করে ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। ভক্ত যখন মনে করে ঈশ্বর অদ্বিতীয় তখন সে নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করে। এ ব্রহ্ম জীবের দেহে আত্মারূপে অবস্থান করেন বলে তাকে দেখা যায় না। এক্ষেত্রে ভক্ত সকল স্থানে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করেন। ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভের জন্য সে বিশ্বের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যান। আবার কেউ সাকার ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। ঈশ্বরের সৃষ্টি, স্থিতি, বিনাশের শক্তি যথাক্রমে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব। বিষ্ণু উপাসনা করেন যারা বৈষ্ণব, শিবের উপাসনা করেন যারা শৈব। এভাবে পৃথক পৃথক উপাসক সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হলেও বিভিন্ন দার্শনিক মত ও বিশ্বাসের মধ্যে গভীর ঐক্য রয়েছে। সেই ঐক্যের সূত্র হলো সকল দেবতাই এক ব্রহ্মের শক্তি, অর্থাৎ ঈশ্বর এক ঈশ্বরের জন্য শ্রীরামকৃষ্ণ আরাধনার বহু পথ অনুসরণ করে দেখেছেন যে সবগুলোই লক্ষ্যই এক। বৈষ্ণব শাক্ত, শৈব, তান্ত্রিক, বৈদান্তিক, মাতুয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষ আলাদা আলাদা পথে সাধনা করলেও এবং আলাদা মত স্থাপন করলেও সকল ধর্মের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ঈশ্বর লাভ। আর এসকল দিক বিবেচনা করেই জয় এবং কমল এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।

5 views

Related Questions