1 Answers
আলোচ্য উদ্দীপকে ইমন তার বই পড়ে জানতে পারে, মানুষ তার কর্মফল অনুযায়ী পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে থাকে। মূলত পূর্ব জন্মের কর্মফল ভোগের জন্যই মানুষের পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করতে হয়। জীবাত্মা পরমাত্মার অংশ। এ অংশের মধ্যে মূলের গুণ বিদ্যমান। তাই জীবাত্মাও পরমা আর ন্যায় অব্যয়, জন্ম মৃত্যুহীন। | অনাদিকাল থেকে পরমাত্মা থেকে জীবাত্মা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আবার কবে এ পরমাত্মায় মিলিত হবে তা বলা যাবে না। তবে যতদিন পর্যন্ত পরমাত্মা বা ঈশ্বরের প্রাপ্তি না ঘটে ততদিন পর্যন্ত জীবাত্মাকে বারবার নতুন দেহ ধারণ করতে হয়। মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করার পর পৃথিবীর মোহে বিভিন্ন কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সে পরমাত্মাকে ভুলে যায়। এভাবে এক সময় মানুষ সংসারের মায়ায় অন্ধ হয়ে নিজের ও সংসারের সুখের কথাই ভাবতে থাকে। ঈশ্বরের কাছে ধন-সম্পত্তি ও সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে। তখন সে ভালোমন্দ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে পাপকর্মে লিপ্ত হয়। এ থেকে যদিও তার সাময়িক কিছু সুখসমৃদ্ধি লাভ হয় কিন্তু পরবর্তীকালে তার আত্মার অবনতি হয় এবং অকল্যাণ সাধিত হয়। 'ফলে সে পৃথিবীর এ জন্মান্তর ঘূর্ণিচক্রে আবর্তিত হয় এবং মৃত্যুর পর আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। মানুষ যদি জন্মের পর তার সেই পরমাত্মাকে স্মরণ রেখে চলে এবং তার চিত্তকে পরমাত্মায় নিবিষ্ট রাখে তার আর জন্ম হয় না। কিন্তু তা না করার কারণে জন্মমৃত্যু চক্রাকারে আবর্তিত হয়।