'অজয়ের অনুভূতি যেন রন্তিবর্মার অনুভূতিরই প্রতিফলন'- আলোচ্য উক্তিটি বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
আট দিন না খাওয়ার পর ত্রাণ হিসেবে পাওয়া শুকনা চিড়া ছিল অজয়ের কাছে বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু তারপরও অজয় তার খাবার তার চেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষকে দান করে দেয়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মমত্ববোেধ থেকেই অজয় এরকম মহৎ কাজটি করতে পেরেছিল। ঠিক অজয়ের মতো পাঠ্যপুস্তকের রন্তিবর্মাকেও আমরা দেখতে পাই আটচল্লিশ দিন অযাচক বৃত্তি গ্রহণের পর যখন তার প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। তখন সে তার ভিক্ষা পাওয়া খাবার ক্ষুধার্ত ভিক্ষুকটি চাওয়া মাত্রই দিয়ে দেয়। এখানে রন্তিবর্মা তার নিজের কথা একটুও চিন্তা করেন নি। করেছেন ভিক্ষুকটির কথা। রন্তিবর্মা বিশ্বাস করতেন মানুষের ধর্ম হচ্ছে তার মনুষ্যত্ববোধ। এ মনুষ্যত্ববোধ বা মানবিকতাবোেধ থেকেই তিনি চরম ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কাছে নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনের বস্ত্র, তৃষ্ণার্তকে জল দান ছিল মানবিকতার আরেক নাম। উদ্দীপকের অজয় আর পাঠ্যপুস্তকের রন্তিবর্মার মধ্যে আমরা একই ধরনের মানবতাবোধ দেখতে পাই। তাদের উভয়ের মধ্যে যেন মানুষের প্রতি এক অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে।