1 Answers
"মায়ানমার সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকান্ডের পূর্ণ প্রতিচ্ছবি" - উক্তিটি যথার্থ।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ঢাকায় যে গণহত্যা শুরু করে, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এদেশের ছাত্রসমাজ, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তারা খ্যাতিমান দার্শনিক অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চন্দ্রদেব, ড. মুনীরুজ্জামানসহ অনেক শিক্ষক এবং শত শত ছাত্রকে হত্যা করে। ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজারের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার অবস্থা ছিল ভয়াবহ।
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে পাকিস্তানি বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে তারা ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে। দুই লাখের অধিক মা-বোন তাদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। পরিকল্পিতভাবে এদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য তারা বরেণ্য সাহিত্যিক, শিল্পী, কবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী 'পোড়ামাটি নীতি' অনুযায়ী বাংলাদেশের সব সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। যে কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট, ঘর- বাড়ি, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির কোনো কিছুই তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তাদের লক্ষ্য ছিল এই ভূখণ্ডের মানুষদের হত্যা করে কেবল ভূমির দখল নেওয়া।
উদ্দীপকে মায়ানমার সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে লক্ষণীয়, রোহিঙ্গাদের ওপর তারা অত্যাচার, নিপীড়ন ও গণহত্যা চালায়। যা উপরে বর্ণিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডেরই প্রতিচ্ছবি।