1 Answers

দৃশ্যকল্প-২-এ নিখিল সাহেবের কর্মকাণ্ড যেন নুসরত শাহ এর কর্মকাণ্ডের মতোই 'জনহিতকর' বক্তব্যটি যথার্থ।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহের মৃত্যুর পর তার জৈষ্ঠ্যপুত্র নুসরত শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। সিংহাসনে বসেই তিনি পিতার মতো দক্ষতা দেখাতে পেরেছিলেন। জনগণের প্রতি নুসরত শাহ ছিলেন সহনশীল এবং সহৃদয়। প্রজাদের পানি কষ্ট নিবারণের জন্য তিনি রাজ্যের বহু স্থানে কূপ ও পুকুর খনন করেছিলেন। বাগেরহাটের মিঠাপুকুর আজও তার কৃতিত্ব বহন করছে। হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতি এ সময়ের বৈশিষ্ট্য ছিল। নুসরত শাহ স্থাপত্য-কীর্তি ও শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। গৌড়ের বিখ্যাত 'কদম রসুল' ভবনের প্রকোষ্ঠে তিনি একটি মঞ্চ নির্মাণ করেন। গৌড়ের সুবিখ্যাত 'বড় সোনা মসজিদ' তার আমলের কীর্তি। নুসরত শাহের আদেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের কিয়দংশ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। শ্রীধরও মহাভারতের অনুবাদ করেছিলেন। জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রসারে নুসরত শাহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লাইব্রেরিও স্থাপন করেছিলেন।

উদ্দীপকের নিখিল সাহেব তার এলাকার পানির অভাব দূর করার জন্য জলাধার নির্মাণের উদ্যোগে নেন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন, যা উপরে বর্ণিত নুসরাত শাহের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২-এ নিখিল সাহেবের কর্মকাণ্ড নুসরত শাহের কর্মকাণ্ডের মতোই জনহিতকর।

4 views

Related Questions