1 Answers
দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত ব্যারিস্টার আবদুল রসুলের কর্মকান্ডের মধ্যে রেনেসাঁ যুগের মনীষী সৈয়দ আমির আলির কর্মের প্রতিফলন ঘটেছে।
উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি। তিনি বাংলা তথা ভারতের প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা ও দাবি দাওয়া আদায়ের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কলকাতায় "সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন" নামে একটি সমিতি গঠন করেন। তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও বৈষয়িক উন্নতি করতে সচেষ্ট ছিলেন। এজন্য তিনি পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেন। পাশাপাশি মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য ১৮৮৪ সালে কলকাতা মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা এবং করাচিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেন। তিনি তার বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ "The Spirit of Islam" এবং "A Short History of the Saracens"-এ ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরব তুলে ধরেন। বাংলার মুসলিম সমাজে তিনি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার এসব কর্মকাণ্ড মুসলমানদের মধ্যে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছিল।
দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত ব্যারিস্টার আবদুল রসুল মুসলমানদের অধিকার আদায় ও তাদের পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। তার প্রকাশিত পত্রিকা "দি মুসলমান" মুসলমানদের জাগ্রত করার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। যা সৈয়দ আমির আলির কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২-এ ব্যারিস্টার আবদুল রসুলের কাজে রেনেসাঁ যুগের মনীষী সৈয়দ আমির আলির কর্মকাণ্ডই প্রতিফলিত হয়েছে। তবে মুসলমানদের অগ্রগতিতে সৈয়দ আমির আলি অধিকতর ভূমিকা রেখেছেন।