1 Answers
উদ্দীপকে বাংলার মধ্যযুগের প্রতিফলন ঘটেছে।
মধ্যযুগে বাংলায় হিন্দু ও মুসলমান এই দুইটি ধর্মকে কেন্দ্র করেই সামাজিক রীতি-নীতি গড়ে উঠেছিল। মুসলমান সমাজে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করা হতো যেমন শিশুর নামকরণের দিনকে কেন্দ্র করে আকিকা নামক বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করত। খতনা মুসলমান সমাজের একটি অতি পরিচিত সামাজিক প্রথা। মুসলমান সমাজে সুফি ও দরবেশ নামে পরিচিত পির ও ফকির সম্প্রদায়ের যথেষ্ঠ প্রভাব ছিল। পিরের দরগায় সন্ধ্যায় আলো জ্বালানো এবং শিরনি প্রদান অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা ছিল। অন্যদিকে মধ্যযুগে বাংলার হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলিত ছিল। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র সমাজে এ চারটি উল্লেখযোগ্য বর্ণ ছিল। বিভিন্ন পেশাকে ভিত্তি করেই এ প্রথার সৃষ্টি। সন্তান জন্মের ৬ মাস পরে করা হতো অন্নপ্রাশনের ব্যবস্থা। হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। এ সময় সমাজে নারীদের তেমন কোনো অধিকার ছিল না।
উদ্দীপকে পোস্টার-১ মুসলিম সমাজের আকিকা, খতনা ও পিরের দরগায় শিরনি প্রদান এবং পোস্টার-২ এ ফিন্দু সমাজের জাতিভেদ প্রথা, সতীদাহ প্রথা, ও অন্নপ্রাশন বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। উপরের আলোচনা অনুযায়ী এগুলো মধ্যযুগের মুসলমান ও হিন্দু সমাজের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাংলার মধ্যযুগের প্রতিফলন ঘটেছে।