1 Answers
উদ্দীপকে অদ্বৈত আচার্য হিন্দুধর্মের যে যুগের কথা বলেছেন তা হচ্ছে পৌরাণিক যুগ। কারণ তিনি উক্ত যুগে শ্রীমদভগবদ্গীতার ভক্তিবাদের কথা উল্লেখ করেছেন।
এই যে বৈষ্ণব, শৈব, শাক্তমতের উল্লেখ করা হলো, এসব মতের সবগুলোতেই সগুণ ঈশ্বর, জগতের সত্যতা এবং ভক্তিমার্গের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা হয়েছে। বৈদিক কর্মবাদ ও বেদান্তের নির্গুণ ব্রহ্মবাদ থেকে পৌরাণিক ধর্মসমূহের পার্থক্য লক্ষ করা যায়। শাস্ত্রবচন থেকে জানা যায়, বিষ্ণু, রুদ্র, শক্তির দেবী- এঁরা সবাই এক মূলতত্ত্বের প্রকাশ বা বিকাশ- 'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি।' এক ব্রহ্মকেই মনীষীরা বিভিন্ন নামে ও রূপে অভিহিত করেন। ধর্মচর্চার অবলম্বন হিসেবে ভক্তি সনাতন সাধনার চিন্তাজগতে এক বিশেষ পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এ প্রসঙ্গে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার প্রসঙ্গটি স্মরণ করা যায়। ভক্তিপথে ঈশ্বর আরাধনার বিশেষ আহ্বান আছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায়। এ গ্রন্থটিতে হিন্দুধর্মের সাধন প্রক্রিয়াগুলোর কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি প্রভৃতি বিষয় সংরক্ষিত ও সমন্বিত রয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদার আহ্বানে হিন্দুধর্মের সমন্বয়-চেতনা বিবৃত হয়েছে। গীতার ভক্তিবাদের প্রকাশ বিভিন্ন পর্যায়ে লক্ষ করা যায়।
এখানে ভগবানের আহ্বান রয়েছে- সতত আমাকে স্মরণ কর, আমাতে মনোনিবেশ কর, আমার ভজনা কর, আমাতেই সমস্ত কর্ম সমর্পণ কর, একমাত্র আমারই স্মরণ লও ইত্যাদি উক্তির মধ্য দিয়ে ভগবতভক্তির উপদেশ লাভ করা যায়। এ ভক্তির ধারাটি আরও বিকাশ লাভ করে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে শ্রীমদ্ভগবত গ্রন্থে।